ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হলো হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বজুড়ে এখন ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ নিয়মিত এই অ্যাপ ব্যবহার করেন। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাউজারভিত্তিক অ্যাকাউন্ট দখল, কনট্যাক্ট অনুসন্ধান ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণার কারণে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তবে অ্যাপটির ভেতরে থাকা কিছু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা–সুবিধা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। হোয়াটসঅ্যাপে থাকা এমনই ৮টি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাসুবিধা তুলে ধরা হলো—
১. প্রাইভেসি চেকআপ টুল
ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাইভেসি চেকআপ টুলটি বেশ কার্যকর। সেটিংসের প্রাইভেসি অপশন থেকে এই টুল ব্যবহার করে সহজেই নির্ধারণ করা যায়—কে আপনার প্রোফাইল ছবি, পরিচিতি, স্ট্যাটাস, অনলাইন উপস্থিতি বা সর্বশেষ সক্রিয় সময় দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কে বার্তা পাঠাতে বা গ্রুপে যুক্ত করতে পারবেন, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
২. ডিজঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বার্তা আদান–প্রদানে সুরক্ষা দিলেও সংরক্ষিত বার্তা অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে ডিজঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ সুবিধা কার্যকর। এটি চালু থাকলে ২৪ ঘণ্টা, ৭ দিন বা ৯০ দিন পর বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। নির্দিষ্ট চ্যাট কিংবা সব নতুন চ্যাটের জন্য এই সুবিধা চালু করা যায়।
৩. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু করলে নতুন ডিভাইসে লগইনের সময় অতিরিক্ত একটি পিন নম্বর দিতে হয়। পাশাপাশি একটি ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করলে প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার সহজ হয়। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ পাসকি সুবিধাও চালু করেছে, যা আরও নিরাপদ লগইন নিশ্চিত করে।
৪. অ্যাপ লক ও চ্যাট লক
নোটিফিকেশন প্রিভিউয়ের মাধ্যমে অন্য কেউ বার্তার অংশ দেখে ফেলতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে অ্যাপ লক সুবিধা রয়েছে। আঙুলের ছাপ, মুখের শনাক্তকরণ বা টাচ আইডি ছাড়া অ্যাপ খোলা সম্ভব হয় না। সংবেদনশীল কথোপকথনের জন্য চ্যাট লক সুবিধায় নির্দিষ্ট চ্যাট আলাদা সুরক্ষিত ফোল্ডারে রাখা যায়।
৫. অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি সেটিংস
হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি অপশনে অচেনা নম্বর থেকে আসা বার্তা ব্লক করা, কলের সময় আইপি ঠিকানা গোপন রাখা এবং লিঙ্ক প্রিভিউ বন্ধ করার মতো সুবিধা রয়েছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে কলের মান সামান্য কমতে পারে, তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ে।
৬. এনহ্যান্সড চ্যাট প্রাইভেসি
এই সুবিধা চালু করলে চ্যাট এক্সপোর্ট সীমিত করা যায়, স্বয়ংক্রিয় মিডিয়া ডাউনলোড বন্ধ থাকে এবং বার্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজে ব্যবহৃত হয় না। প্রতিটি চ্যাটের জন্য আলাদাভাবে এটি চালু করা সম্ভব।
৭. রিড রিসিপ্ট
নীল টিকের মাধ্যমে বার্তা পড়া হয়েছে কি না বোঝা যায়। রিড রিসিপ্ট বন্ধ করলে অন্য কেউ জানতে পারবেন না আপনি বার্তা পড়েছেন কি না। তবে এতে ব্যবহারকারী নিজেও অন্যের রিড রিসিপ্ট দেখতে পারবেন না।
৮. মিডিয়া কন্ট্রোল
ডিফল্টভাবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি ও ভিডিও ফোনের গ্যালারিতে সংরক্ষিত হয়, যা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়। সেটিংস থেকে মিডিয়া অটো-সেভ বন্ধ করা যায়। পাশাপাশি ‘একবার দেখুন’ অপশনে পাঠানো ছবি বা ভিডিও দেখার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়, যা সংবেদনশীল কনটেন্টের ক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষা দেয়।
