সমুদ্রদূষণে বিপন্ন ডলফিন ও তিমি

সমুদ্রদূষণে বিপন্ন ডলফিন ও তিমি

বিশ্বব্যাপী সমুদ্রদূষণ দ্রুত বাড়তে থাকায় গভীর সমুদ্রের ডলফিন ও তিমি গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী ১২৭টি ডলফিন ও তিমির দেহে বিপজ্জনক মাত্রায় পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল পদার্থ (PFAS) জমা হয়েছে। এসব রাসায়নিক দাগপ্রতিরোধী কাপড়, নন-স্টিক রান্নার পাত্র ও খাদ্যপ্যাকেটসহ নানান মানবসৃষ্ট পণ্য থেকে সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাকৃতিকভাবে এগুলো নষ্ট হতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগে, ফলে সমুদ্রের পানি ও খাদ্যশৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ তৈরি হচ্ছে।

গবেষণাটি সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা নেতৃত্ব দেওয়া ইউনিভার্সিটি অব ওলোনগংয়ের মেরিন ভার্টিব্রেট ইকোলজি ল্যাবের বিজ্ঞানী ক্যাথারিনা পিটার্স বলেন, গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী স্পার্ম তিমির মতো প্রজাতিগুলোকে দূষণমুক্ত মনে করা হলেও বাস্তবে তাদের শরীরেও PFAS–এর উচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, “ডলফিন ও তিমির লুকানোর আসলেই কোনো জায়গা নেই। দূষণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনি ও অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের গবেষক ফ্রেডেরিক স্যালট্রে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলের দূষণ একসঙ্গে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। গভীর সমুদ্রের প্রাণীরাও এখন এসব মানবসৃষ্ট রাসায়নিকের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, PFAS–এর মতো রাসায়নিক পদার্থ প্রাণীদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে, তাদের প্রজননপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ দূষণ কেবল প্রাণীর নয়, মানুষের শরীরেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব, থাইরয়েড রোগ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যার সঙ্গে এসব রাসায়নিকের সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমে যাবে এবং পুরো সমুদ্রবাস্তুতন্ত্রই হুমকির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *