স্মার্টফোনে ওয়াই–ফাই চালু থাকলে ফোন আশপাশের সব নেটওয়ার্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে। অপরিচিত পরিবেশে এই স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং নানা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাইবার অপরাধীরা ভুয়া বা ক্ষতিকর ‘হটস্পট’ তৈরি করে ফোনকে অজান্তেই যুক্ত করতে পারে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সবসময় সক্রিয় থাকা ওয়াই–ফাই ডিভাইসকে ভুয়া অ্যাক্সেস পয়েন্ট আক্রমণে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে এবং স্ক্যানিং সিগন্যাল থেকেই তথ্য ফাঁস হতে পারে।
অপরিচিত জায়গায় ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখার প্রধান উপকারিতা
১. অনিরাপদ নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয় সংযোগ ঠেকায়
পাবলিক নেটওয়ার্ক সাধারণত এনক্রিপশনবিহীন হয়। ওয়াই–ফাই চালু থাকলে ফোন এসব নেটওয়ার্কে অনুমতি ছাড়াই যুক্ত হতে পারে, ফলে পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য, বার্তা বা ব্রাউজিং ডেটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
২. ভুয়া হটস্পট থেকে সুরক্ষা
সাইবার অপরাধীরা আসল নেটওয়ার্কের মতো নাম ব্যবহার করে ‘ফ্রি ওয়াই–ফাই’ বানায়। ফোন আগে ব্যবহৃত নামের সঙ্গে মিল পেলে অটো–কানেক্ট হতে পারে। সংযুক্ত হলেই তারা সহজে তথ্য নজরদারি বা চুরি করতে পারে।
৩. লোকেশন ট্র্যাকিং কমায়
শপিংমল, পরিবহনকেন্দ্র বা বিজ্ঞাপন সংস্থা ওয়াই–ফাই স্ক্যানিং সিগন্যাল ব্যবহার করে মানুষের চলাচল ট্র্যাক করতে পারে। ওয়াই–ফাই বন্ধ রাখলে এই প্যাসিভ ট্র্যাকিং ঠেকানো যায়।
৪. ব্যাটারি সাশ্রয় হয়
ওয়াই–ফাই চালু থাকলে ফোন বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজে ব্যাটারি বেশি খরচ করে। তাই অপ্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধ রাখলে ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স ভালো থাকে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য যা করা জরুরি
-
অটো–জয়েন বা স্বয়ংক্রিয় সংযোগ বন্ধ রাখুন।
-
অপ্রয়োজনীয় পুরোনো নেটওয়ার্ক ডিলিট করুন।
-
বাইরে মোবাইল ডেটা বা নিরাপদ VPN ব্যবহার করুন।
-
পাবলিক ওয়াই–ফাই দিয়ে ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল কাজে লগইন করবেন না।
-
নেটওয়ার্কের নাম ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন।
কখন ওয়াই–ফাই চালু রাখা নিরাপদ
বাড়ি, অফিস বা পরিচিত নিরাপদ নেটওয়ার্কে ওয়াই–ফাই ব্যবহার করা সাধারণত ঝুঁকিমুক্ত, কারণ এসব নেটওয়ার্কে সঠিক সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা থাকে। মূল ঝুঁকি তৈরি হয় অপরিচিত ও পাবলিক স্থানে।
