প্রথমবারের মতো ডার্ক ম্যাটার শনাক্তের দাবি জাপানি বিজ্ঞানীদের

ডার্ক ম্যাটার

বহু দশকের রহস্য উন্মোচনের পথে বড় অগ্রগতির দাবি করেছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো ডার্ক ম্যাটারের ঝলক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নাসার ফার্মি গামা-রে স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করে এ পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীরা জানান, মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে প্রায় ২০ গিগা ইলেকট্রন ভোল্ট শক্তিতে একটি হ্যালো-আকৃতির গামা রশ্মির আভা দেখা যায়। অস্বাভাবিক এই সংকেতটি ডার্ক ম্যাটার কণার সম্ভাব্য রূপ হিসেবে বিবেচিত উইকলি ইন্টারঅ্যাকটিং ম্যাসিভ পার্টিকেল (WIMP)–এর ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলে গেছে। তত্ত্ব অনুযায়ী, দুটি WIMP কণা ধ্বংস হলে গামা রশ্মি তৈরি হয়—যা মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী আলোক রূপ।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তোমোনোরি তোতানি বলেন, “আমরা যে নির্গত সংকেত পেয়েছি, তা প্রত্যাশিত ডার্ক ম্যাটার প্রোফাইলের সঙ্গে গভীরভাবে মিল রয়েছে। সহজ কোনো বিকল্প ব্যাখ্যাও নেই। গবেষণাটি সঠিক হলে মানবজাতি প্রথমবার সরাসরি ডার্ক ম্যাটার দেখার অভিজ্ঞতা পেল।”

এই আবিষ্কার নিশ্চিত হলে পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বাইরে নতুন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হবে, যা হিগস বোসনের মতো একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, ডার্ক ম্যাটার আলো নির্গত, শোষণ বা প্রতিফলিত করে না—তাই এটি অদৃশ্য থাকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার; দৃশ্যমান নক্ষত্র ও গ্রহ তার সামান্য অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *