চেরনোবিলে আবারও মহা বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চেরনোবিলে আবারও মহা বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১৯৮৬ সালের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যে বিশেষ সুরক্ষা ডোম নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি সাম্প্রতিক রুশ ড্রোন হামলায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত ড্রোন হামলায় চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ ঢেকে রাখা ডোমটির কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। চলতি মাসে আইএইএর একটি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে দেখতে পায়, ডোমটি তার প্রধান কাজ—তেজস্ক্রিয় পদার্থ আটকে রাখার সক্ষমতা—অনেকটাই হারিয়েছে।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি জানিয়েছেন, ছাদের ওপর সাময়িক মেরামত করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ডোমটির আরও অবনতি রোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংস্কার জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডোমটির মূল কাঠামো ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এখনও কার্যকর থাকলেও এর ভেতরে ১৯৮৬ সালের দুর্ঘটনার পর থেকে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রয়ে গেছে। চলমান যুদ্ধের কারণে আশপাশের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চুল্লি ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় আইএইএ দ্রুত আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করেছে।

ইউরোপীয় ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় ২০২৬ সালে চেরনোবিলে অস্থায়ী মেরামতের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে চেরনোবিলের নিষিদ্ধ অঞ্চলে মানুষের বসবাস নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওই এলাকার কুকুরদের শরীরে উল্লেখযোগ্য জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে। ১১৬টি কুকুরের রক্ত পরীক্ষায় প্রায় ৪০০টি জিনগত মিউটেশন শনাক্ত করা হয়, যা তাদের দীর্ঘদিন তেজস্ক্রিয় পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করছে।

প্রকৃতির এই অভিযোজন ক্ষমতা বিস্ময়কর হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডোমটি যদি পুরোপুরি ধসে পড়ে, তাহলে তা শুধু ইউক্রেন নয়—পুরো ইউরোপের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *