কেবল এক রাতের ঘুমের ধরন বিশ্লেষণ করেই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া এমনকি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি আগাম জানাতে সক্ষম একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। ‘স্লিপএফএম (SleepFM)’ নামের এই এআই মডেলটি আধুনিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি পূর্বাভাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় জানা গেছে, স্লিপএফএম মডেলটিকে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের ৫ লাখ ৮৫ হাজার ঘণ্টার ঘুমের তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে ঘুমের সময় মস্তিষ্কের তরঙ্গ, চোখের নড়াচড়া, পেশির কার্যকলাপ, হৃৎস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সংকেত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব জটিল তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই মডেলটি একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ রোগঝুঁকি নির্ণয় করতে পারে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, এই এআই মডেলটি পারকিনসনস রোগের ঝুঁকি ৮৯ শতাংশ, ডিমেনশিয়া ৮৫ শতাংশ এবং হার্ট অ্যাটাক ৮১ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি স্তন ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে নির্ভুলতার হার ছিল যথাক্রমে ৮৭ ও ৮৯ শতাংশ। এমনকি কোনো ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকি অনুমানে মডেলটির সফলতা ছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ।
বর্তমানে ঘুম বিশ্লেষণের জন্য পলিসমনোগ্রাফি নামের জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। তবে গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে স্লিপএফএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজ উপায়ে ও কম খরচে আগাম রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গবেষক দলের সদস্য বিজ্ঞানী জেমস জৌ জানান, এআই মডেলটির পূর্বাভাস ক্ষমতা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে স্মার্ট ঘড়ি ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য যুক্ত করে এই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, শুধু ঘুমের তথ্য ব্যবহার করেই ১৩০টিরও বেশি রোগের ঝুঁকি যুক্তিসংগত নির্ভুলতায় নির্ণয় করা সম্ভব। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা, রক্তসঞ্চালনজনিত রোগ এবং বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির ক্ষেত্রেও এই এআই মডেল কার্যকর পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং আগাম সতর্কতার মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হতে পারে।
